
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে প্রকাশিত সূচকে ঢাকার বায়ুর মানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৩১০, যা পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। মেগাসিটি ঢাকার বায়ুর মান মাঝে কিছুটা উন্নত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দূষণের মাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একই সময়ে প্রকাশিত তালিকায় ২২৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, যেখানকার বায়ুর মানকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে ভারতের কলকাতা ১৯৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং দিল্লি ১৮৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া চীনের রাজধানী বেইজিং ১৭৭ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
বায়ুর মান পরিমাপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে ‘মাঝারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয় এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে পৌঁছালে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুর মান যখন ৩০০ স্কোর অতিক্রম করে, তখন তা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক প্রকার জরুরি অবস্থা হিসেবে গণ্য হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যদের বাইরের সব ধরনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
ঢাকার বর্তমান এই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বায়ু সেবনের ফলে ফুসফুসের সংক্রমণসহ দীর্ঘমেয়াদী নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।