
নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের দায়িত্বের ইতি ঘটছে। তিনি নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজবশির গ্রুপ-এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ফিরবেন।
সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।
এর আগে সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তার বিদায় সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনি স্ত্রী ইফসিয়া মাহিনকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান ও আয়েশা আক্তার, বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন-এর চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান বক্তব্য দেন।
বিদায় বক্তব্যে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর নৈতিকতার প্রশ্নে কখনো আপস করিনি, কখনো করবও না। বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছি, আমাদের সন্তানদের জন্য কাজ করেছি। এ কাজে মন্ত্রণালয়ের সব উইং ও দপ্তর–সংস্থা সমষ্টিগতভাবে কাজ করতে পেরেছি—এ সুখস্মৃতি নিয়ে আমি এখান থেকে আমার কাজে ফিরে যেতে পারছি।’
সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সম্পর্কে অসম্ভব খারাপ ধারণা নিয়ে এসেছিলাম। আজ আমি কৃতজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। আমি মনে করি, আপনারা দেশের সম্পদ। সঠিক নেতৃত্ব থাকলে আপনারা যে কাজ করতে পারেন, তা আপনারা দেখিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরকারি কর্মচারীদের আচরণে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘কেউ অন্যায্য কাজ করাতে চাইলে আপনাদের বলতে হবে যে এটা সম্ভব না। অথবা বিনয়ের সঙ্গে বলতে হবে, এভাবে কাজটা হওয়া উচিত।’
নতুন নেতৃত্বকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন মন্ত্রীকে দয়া করে সহায়তা করবেন। তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে চাইলে দয়া করে করুন, কিন্তু তাকে তা বলুন।’
শেখ বশিরউদ্দীন ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। সেদিনই তিনি আকিজবশির গ্রুপের এমডি পদ ছাড়েন। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল তার ওপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট তাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
আকিজবশির গ্রুপের ব্যবসার পরিধিতে সিরামিকস, স্যানিটারি ও বাথওয়্যার, টেবিলওয়্যার, পার্টিকেল বোর্ড, পাট, স্টিল ও চা-সহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত।