
মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ২২৬।
এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার স্কোর ছিল ১৯৭, যা থেকে স্পষ্ট যে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধূলিকণা ও ধোঁয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মেগাসিটি ঢাকা নিয়মিতভাবে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকার প্রথম সারিতে অবস্থান করছে।
বৈশ্বিক তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার স্কোর রেকর্ড ৪৮৯। এই পরিমাণ দূষণকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ওই শহরের বাসিন্দাদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লি ২০০ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ভারতের আরও দুটি শহর কলকাতা ও মুম্বাই যথাক্রমে ১৭২ ও ১৬৫-এর কাছাকাছি স্কোর নিয়ে তালিকার অষ্টম ও দশম স্থানে অবস্থান করছে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের লাহোর ১৮৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম এবং করাচি ১৭৯ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় এই মেগাসিটিগুলোর বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকায় পুরো অঞ্চলেই বায়ুদূষণ একটি গুরুতর সংকটে পরিণত হয়েছে।
অন্যান্য দূষিত শহরগুলোর মধ্যে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর ১৮৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ, নেপালের কাঠমান্ডু ১৭৩ স্কোর নিয়ে সপ্তম এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ১৬৯ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে রয়েছে। বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
যখন স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বায়ুমান এই পর্যায়ে থাকায় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীতের শেষে বৃষ্টিহীন শুষ্ক আবহাওয়া এবং যত্রতত্র নির্মাণকাজের ফলে বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে নাগরিকদের মাঝে ফুসফুসের সংক্রমণ ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে।
যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে রাস্তাঘাটে পানি ছিটানো ও কলকারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বায়ুমান ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নগরবাসীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।