
জরায়ুমুখে ক্যানসার সচেতনতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেকে) র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। জরায়ুমুখে ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলেক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ঢামেক হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস্ বিভাগের গাইনি অনকোলজি ইউনিটের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা হয়।
বাংলাদেশে নারী মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ জরায়ুর মুখ ক্যান্সার। GLOBOCAN 2022 তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে জরায়ুর মুখ ক্যান্সারে ৯,৬৪০ জন নারী আক্রান্ত হয় তার মধ্যে মৃত্যুবরণ করে ৫২১৪ জন। সময়মতন টিকা নিলে জরায়ুর মুখ ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা যায়। টিকার পাশাপাশি স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসা করার বিষয়েও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুরুত্ব দিয়েছেন।
জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে আয়োজিত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ওজিএসবির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডাক্তার ফিরোজা বেগম, যুগ্ম সচিব (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) শিব্বির আহমেদ ওসমানী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, উপাধ্যক্ষ এবং গাইনি বিভাগের প্রধান, মেম্বার সেক্রেটারি ও জি এস বি প্রফেসর ডাক্তার মুসাররাত সুলতানা, অধ্যাপক ডাক্তার আশরাফুন্নেসা, গাইনী অনকোলজি ইউনিটের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার এস এম সাহিদা, ঢামেক উপপরিচালক ডাক্তার আশরাফুল আলম সহ গাইনিবিভাগের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ, ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ, সেবিকারা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা জরায়ুর মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং স্ক্রিনিং এর উপরে গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুর মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ৯০ ভাগ টিকা, ৭০ ভাগ স্ক্রিনিং এবং ৯০ ভাগ রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের চিকিৎসা পাবার পর তাদের জীবনের গল্প বলার মাধ্যমে আমি অন্যদের ক্যান্সারের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। আজকের আয়োজনে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক জরায়ুর মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ঢামেকহা উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম হাসপাতালভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কমিউনিটি লেভেলে জনগণের সম্পৃক্ততার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডাক্তার মির্জা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকা মেডিকেলে জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং সঠিক চিকিৎসার সব ধরণের আধুনিক সুবিধা রয়েছে বলে সকলকে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার রিফাত আরা। সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আশফী লায়লা ইলোরা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সরকারি অধ্যাপক গাইনী অনকোলজি ইউনিট ডাক্তার মির্জা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।