
মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাতসকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৪২, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত কয়েক দিন বায়ুর মান কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দূষণের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে দূষণের এই দৌড়ে ৩১৪ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এছাড়া ২২৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের করাচি, ২২১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে চীনের চেংদু এবং ২১৮ স্কোর নিয়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদের ক্ষেত্রে বাইরের সব ধরনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তাকে ‘ভালো’ বাতাস বলা হয়। তবে স্কোর ১০০ ছাড়িয়ে গেলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ২৪২ হওয়ায় নগরবাসীর জন্য তা চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ভোরে যারা প্রাতঃভ্রমণে বের হন অথবা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বিষাক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলোবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার দূষণ ঢাকার বাতাসকে এমন বিষাক্ত করে তুলছে। একিউআই স্কোর যদি ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তবে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানের এই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। শহরের বায়ুমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সামনের দিনগুলোতে দূষণের এই রেকর্ড আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।