
দীর্ঘ ৫০ বছরের বিরতি কাটিয়ে চাঁদের কক্ষপথে পুনরায় মানুষ পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালের সর্বশেষ অ্যাপোলো অভিযানের পর ‘আর্টেমিস ২’ হতে যাচ্ছে চাঁদে মানুষের প্রথম কোনো মিশন, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হতে পারে। বর্তমানে এই মিশনের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেট ও ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নিয়ে আসা হবে। অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে লঞ্চ প্যাড পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে রকেটটির প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে, যা আগামী ১৭ জানুয়ারির পর সম্পন্ন করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানে মোট চারজন নভোচারী অংশগ্রহণ করছেন। এই দলে নাসার কমান্ডার হিসেবে থাকছেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে চতুর্থ সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেন।
নভোচারীদের এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন সিস্টেম বা ‘লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম’ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে মহাকাশযানটি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম কি না।
উৎক্ষেপণের পর নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে দুবার প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর সরাসরি চাঁদের অভিমুখে রওনা দেবেন। তারা চাঁদের দূরবর্তী পাশ বা ‘ফার সাইড’ অতিক্রম করে আরও প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার গভীরে এগিয়ে যাবেন।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকেট ও মহাকাশযানটি নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ প্যাডে পৌঁছালে জানুয়ারির শেষদিকে নাসা ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ বা একটি পূর্ণাঙ্গ মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এই মহড়ায় রকেটে জ্বালানি ভরা হবে এবং আসল উৎক্ষেপণের আগে সম্পূর্ণ কাউন্টডাউন প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। তবে উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিনটি ফ্লোরিডার আবহাওয়া এবং কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের ওপর নির্ভর করবে।
নাসার এই ‘আর্টেমিস’ প্রোগ্রামটি মূলত চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘আর্টেমিস ২’ সফল হলে পরবর্তী ধাপে নভোচারীদের সরাসরি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার।
১৯শে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যে কোনো দিন এই মিশনের যাত্রা শুরু হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা এখন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যা মানবজাতির মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সূত্র: এনগ্যাজেট