
বিগ ব্যাশ লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেল হোবার্ট হারিকেন্স। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের ফলেই প্রথম দল হিসেবে এবারের আসরের প্লেঅফ নিশ্চিত করেছে রিশাদ হোসেনের দল। টুর্নামেন্টজুড়ে চোখে পড়ার মতো বোলিংয়ে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই বাংলাদেশি লেগ স্পিনার।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ চারে জায়গা পাকা হয় রিশাদ হোসেনদের।
সিডনির মাঠে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছিল ম্যাচটি। স্বাগতিক সিডনি সিক্সার্স ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৫ ওভার খেলেছিল। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫ মিনিটে ম্যাচ শুরু হলেও এরপর হঠাৎ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
এই পরিত্যক্ত ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়ে ৯ ম্যাচ শেষে হোবার্ট হারিকেন্সের পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৩। ফলে টেবিলের ৫ থেকে ৮ নম্বরে থাকা কোনো দলের পক্ষেই তাদের টপকে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রিসবেন হিটের পয়েন্ট ৮, বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও তারা সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্ট পেতে পারে। একইভাবে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসেরও সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ১২। এমনকি পরের ম্যাচে ব্রিসবেন হিটকে হারাতে পারলে টেবিল টপার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে হোবার্টের।
হোবার্টের এই সাফল্যের পথে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি শুধু দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই নন, এবারের বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বোলারও। ২০.৮১ গড় ও ৭.৬৩ ইকোনমিতে ১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। হোবার্টের প্রতিটি ম্যাচেই একাদশে ছিলেন রিশাদ, যা দলে তার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
বিগ ব্যাশে অভিষেকের আগেই হোবার্ট হারিকেন্সের আস্থা পেয়েছিলেন রিশাদ। দলটির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার স্যালিয়ান ব্রিগস জানান, রিশাদকে দলে নেওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদের আগ্রাসী বোলিং ও উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য পন্টিংকে মুগ্ধ করেছিল।
পারফরম্যান্স দিয়েও সতীর্থদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন রিশাদ। গত ২৭ ডিসেম্বর সতীর্থ টিম ডেভিড বলেন, ‘প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে এসে রিশাদ যেভাবে পারফর্ম করছে, তা দারুণ। ছোট সোজা বাউন্ডারিতেও আপনি নিশ্চিন্তে তার হাতে বল তুলে দিতে পারেন। সে খুব বিচক্ষণ এবং তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।’
বিগ ব্যাশ লিগে রিশাদের আগে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে উইকেটশিকারের দিক থেকে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন রিশাদ। ২০১৩–১৪ ও ২০১৪–১৫ মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসের হয়ে সাকিব ৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।