
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ১৪৮ রানে থামিয়ে দিয়েছে রংপুর রাইডার্স। রংপুরের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে বিধ্বংসী শুরু করলেও পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে ইনিংসের শেষ দিকে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপ।
বিপিএল ইতিহাসে এটি চলতি আসরের দ্বিতীয় এবং মৃত্যুঞ্জয়ের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে তিনি প্রথমবার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
ম্যাচের শুরুটা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য ছিল দারুণ আশাব্যঞ্জক। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তুলে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। উদ্বোধনী জুটিতে শাহাদাত হোসেন দিপু ৮ বলে ১৪ রান করে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হওয়ার পর সৌম্য সরকার ও হাবিবুর রহমান সোহান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন।
সোহান ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৬ বলে ৩০ রান করে সুফিয়ান মুকিমের শিকার হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর দ্রুতই পথ হারায় নোয়াখালী। ২৭ বলে ৩১ রান করা থিতু হয়ে যাওয়া সৌম্য সরকার এবং অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবিকে একই ওভারে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানি অলরাউন্ডার খুশদিল শাহ। এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।
মধ্যভাগে জাকের আলী অনিক এক প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করলেও তার ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটি ছিল বেশ ধীরগতির। অধিনায়ক হায়দার আলী মাত্র ১ রান করে নাহিদ রানার বলে আউট হওয়ার পর নোয়াখালীর ইনিংসের লেজ ছেঁটে দেওয়ার কাজ শুরু করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
মোস্তাফিজ ১৩৮ রানের মাথায় জাকের ও মেহেদী হাসান রানাকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও তা সফল হয়নি। তবে শেষ ওভারে এসে সব আলো কেড়ে নেন মৃত্যুঞ্জয়। ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে (২৮ রান) সাজঘরে ফেরানোর পর চতুর্থ বলে জহির খান এবং পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
মৃত্যুঞ্জয়ের এই অবিশ্বাস্য বোলিং স্পেলের কারণে নোয়াখালী এক্সপ্রেস নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। রংপুরের বোলারদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় ছাড়াও মোস্তাফিজ ও খুশদিল শাহ দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছেন। জয়ের জন্য ১৪৯ রানের লক্ষ্যে এখন ব্যাটিংয়ে নামবে রংপুর রাইডার্স।
নোয়াখালীর জন্য এটি একটি হতাশাজনক হার হতে পারে, কারণ উড়ন্ত সূচনার পরও তারা দেড়শ রানের গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয়েছে। রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং বিশেষ করে মৃত্যুঞ্জয়ের শেষ মুহূর্তের তান্ডব ম্যাচটিকে পুরোপুরি রংপুরের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।