
লিওনেল মেসির জীবন সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরে তার পারিবারিক জীবনের প্রতিটি দিকও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবার সেই পরিবারের নিয়ন্ত্রণক্ষম দিক নিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।
ইংলিশ ট্যাবলয়েড ‘দ্য সান’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তোনেলার জন্য এমএলএস কাপ ফাইনাল দেখার অনুমতি পাননি ব্রাজিলিয়ান মডেল সুজি কোর্তেজ। সেই ম্যাচে ইন্টার মায়ামিকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মেসি। ঘটনার সূত্রপাত বেশ আগেই। ব্রাজিলের বিখ্যাত ‘মিস বামবাম’ প্রতিযোগিতার বিজয়ী সুজি কোর্তেজ নিজেকে বহুবার মেসির বড় ভক্ত হিসেবে দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসিকে বেশ কিছু বিব্রতকর মেসেজ ও ব্যক্তিগত ছবি পাঠান কোর্তেজ। সেই সময় তাকে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করেন মেসি। পরে একপর্যায়ে আনব্লক হওয়ার পর একটি উষ্ণ ফটোশুট করেন কোর্তেজ, যা আবারও বিতর্কের জন্ম দেয়।
‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমএলএস কাপ ফাইনালের আগে স্টেডিয়ামে প্রবেশের আবেদন করেছিলেন কোর্তেজ। ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে ইন্টার মায়ামির কর্তৃপক্ষকে কোজেকে মাঠে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানান রোকুজ্জো। ফলে তার ভিআইপি সিটের অনুরোধ বাতিল হয়। শেষ
পর্যন্ত স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি কোর্তেজ।
ম্যাচ শেষে স্থানীয় মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি অপমানিত বোধ করেছি। কোনো ব্যক্তিগত কারণে কাউকে জনসম্মুখের একটি খেলাধুলার ইভেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। এটি লজ্জাজনক।’ তিনি আরও জানান, মেসি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করা হয়েছে।
তবুও থেমে থাকতে রাজি নন কোর্তেজ। তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে মেসিকে দেখতে যাবেনই এবং প্রয়োজনে মেসির পরিবারের মুখোমুখিও হবেন। তার শরীরে মেসির প্রেরণায় একাধিক ট্যাটু আছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মেসি ও আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সম্পর্ক বরাবরই পরিবারকেন্দ্রিক ও পরিপাটি জীবনের প্রতিচ্ছবি।
‘গ্রাজিয়া’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তোনেলা বলেছেন, ‘আমরা খুব সাধারণ পরিবার। আমাদের রুটিনটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। খুব সকালে উঠে আমরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাই। ওরা স্কুলে থাকা অবস্থায় আমি নিজের ট্রেনিং, মিটিং বা ফটোশুটগুলো করি। বিকালে আবার ওদের সঙ্গে সময় কাটাই, ফুটবল অনুশীলনে যাই, ডিনার করি, তারপর ঘুমাতে যাই। সবকিছুই নিয়মের মধ্যে চলে।’