
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টন শুরুর আগেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার মতে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেউ দেখবে না।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কী বাত’-এ অশ্বিন বলেন, ‘এবার কেউ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখবে না। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে খেলাগুলো দেখুন। ভারত-আমেরিকা, ভারত-নামিবিয়া! এই সব ম্যাচের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ থাকে না। ভারত প্রথম দিকের ম্যাচগুলো ইংল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের সঙ্গে খেললেও একটা আকর্ষণ থাকত।’
বিশ্বকাপের দলের সংখ্যা বাড়ানোয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সমালোচনা করেছেন অশ্বিন। ভারতের সাবেক এই স্পিনার আরও বলেন, ‘দলের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রতিযোগিতার মান কমছে। দলগুলোর মানের পার্থক্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। এভাবে আকর্ষণ ধরে রাখা যায় না।’
দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঘন ঘন বড় মাপের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে অশ্বিন বলেন, ‘আগে চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ হতো। প্রতিযোগিতার একটা আকর্ষণ থাকত। উত্তেজনা থাকত। এখন প্রতিবছরই আইসিসির প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ঘন ঘন প্রতিযোগিতা হওয়ায় আকর্ষণ হারাচ্ছে।’
এ সময় স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলে পড়ার সময় বিশ্বকাপ এত ঘন ঘন হত না। ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্বকাপ দেখতাম আমরা। বিশ্বকাপের কার্ড সংগ্রহ করতাম। সূচি টাঙিয়ে রাখতাম দেওয়ালে। কত উত্তেজনা থাকত।’
মান বিসর্জন দিয়ে ক্রিকেটের প্রসারের পক্ষে নন অশ্বিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্বকাপের মান বিসর্জন দিয়ে এটা করতে হবে? প্রতিযোগী দলগুলোর ভারসাম্য না থাকলে, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতারও আকর্ষণ ধরে রাখা যাবে না।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভবিষৎ নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘জানি না আগামী বিশ্বকাপের পর একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী। বিজয় হাজারে ট্রফির কিছু ম্যাচ দেখেছি। অনেক খেলোয়াড়ের মানসিকতা ৫০ ওভারের ম্যাচের মতো নয়। দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা এবার খেলেছে। মানুষের মধ্যেও বিজয় হাজারে ট্রফি নিয়ে ভালো উৎসাহ দেখা গিয়েছে। খেলোয়াড় কখনও খেলার চেয়ে বড় হতে পারে না। তবু কোনও কোনও সময় কিছু খেলোয়াড়ের জন্যও প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এবারের বিজয় হাজারেই তার প্রমাণ। না হলে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা কত জন দেখেন? কিন্তু কোহলি-রোহিত এক দিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলে কী হবে জানি না।’