
বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় দীর্ঘ তিন বছর পর বড় ধরনের আইনি অগ্রগতি হয়েছে। জ্যামাইকার ধসে পড়া বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’-এর তিন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটের অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হওয়া ১০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা) অর্থ লোপাটের এই ঘটনায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম এই জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে এলে বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
অলিম্পিকে আটটি স্বর্ণপদক জয়ী বোল্টের বিনিয়োগ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সুকৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, যেখানে তার ১০ মিলিয়ন পাউন্ড থাকার কথা, সেখানে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৯ হাজার ৭০০ পাউন্ড। উসাইন বোল্ট ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা আরও প্রায় ২০০ গ্রাহক একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার নতুন অভিযুক্তরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিউ ক্রুস্কেরি, সারাহ মেনি ও জ্যাকারি হার্ডিং। তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির সুনিপুণ জাল বিছিয়ে বিনিয়োগে প্ররোচিত করা, ডিলার লাইসেন্স ছাড়াই বেআইনিভাবে সিকিউরিটিজ ব্যবসা পরিচালনা, কোম্পানি নিবন্ধন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং ব্যাংকিং পরিষেবা আইন ভঙ্গের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত বর্তমানে এই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ক্রস্কেরি ও মেনিকে ৭ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ডের বিশাল অঙ্কের বন্ডে জামিন দিলেও পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নজরদারিতে রেখেছে। আরেক অভিযুক্ত হার্ডিংকেও জামিন দেওয়া হলেও তার শর্তগুলো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর আগে এই জালিয়াতি মামলায় কেবল সম্পদ উপদেষ্টা প্যান্টন অভিযুক্ত ছিলেন।
শুরু থেকেই এই অর্থ কেলেঙ্কারির নেপথ্যে বড় কোনো চক্রের হাত থাকার দাবি করে আসছিলেন উসাইন বোল্টের আইনজীবী গর্ডন। তিনি শুরু থেকেই যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে, একজন সাধারণ কর্মকর্তার পক্ষে এককভাবে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা একেবারেই অসম্ভব। প্রতিষ্ঠানের তিন সাবেক নীতিনির্ধারকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে গর্ডনের সেই দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও দাবিই এখন সত্য প্রমাণিত হলো।