
বাংলাদেশের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে আবারও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার। আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে মালয়েশিয়া।
দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন ও এভিয়েশন প্রকাশনা ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’ পরিচালিত এক দেশব্যাপী পাঠক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ২০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে প্রায় ১৫ হাজার ২০০ নিয়মিত ভ্রমণকারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন। এই জরিপের ফলাফল বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্পের গতিপ্রকৃতি এবং পর্যটকদের পরিবর্তিত রুচির এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশীয় গন্তব্য হিসেবে কক্সবাজার বিশাল ব্যবধানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চায়ের দেশ সিলেট দ্বিতীয় এবং পাহাড় ও ঝরনার শহর বান্দরবান তৃতীয় জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন চতুর্থ এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি কুয়াকাটা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া ঐতিহ্যের টানে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পুরান ঢাকা। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় দেশীয় স্থানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁ, রাঙামাটি, দিনাজপুর এবং টেকনাফ স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রগুলোকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া শীর্ষস্থান দখল করার পেছনে দেশটির সহজ ভিসা নীতি, উন্নত বিমান যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কেনাকাটা, বিনোদন এবং উন্নত চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট করছে। জনপ্রিয়তার এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ।
এ ছাড়া বিনোদন, ব্যবসা ও ধর্মীয় ভ্রমণের চাহিদার ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে নেপাল, ভারত, ভুটান এবং ইন্দোনেশিয়া।
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের ফলাফল পর্যটকদের অভিজ্ঞতামূলক এবং টেকসই পর্যটনের প্রতি ক্রমবর্ধমান ঝোঁককে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক খরচ এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার সুযোগ থাকায় মানুষ এখন আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
‘বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর এই আয়োজনের মাধ্যমে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতকে আরও উৎসাহিত করছে।