
খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৬-এর প্রথম সকালেই অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৩টি দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল দশম।
এ সময় ঢাকার বায়ুর মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৭, যাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই তালিকায় ৩৭০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মিসরের রাজধানী কায়রো এবং ৩১৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। গত ডিসেম্বর মাস জুড়ে ঢাকার বায়ুর মান প্রায় প্রতিদিনই খুব অস্বাস্থ্যকর থেকেছে, যার ধারাবাহিকতা বছরের প্রথম দিনেও বজায় রয়েছে।
রাজধানীর সামগ্রিক বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হলেও ঢাকার নির্দিষ্ট পাঁচটি স্থানে বায়ুর দূষণ আজ সকালে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইকিউএয়ার-এর লাইভ ইনডেক্স অনুযায়ী, বেচারাম দেউড়িতে বায়ুর মান ছিল ২৭০, দক্ষিণ পল্লবীতে ২৪৪, গোড়ানে ২৩৩, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ২২২ এবং শান্তা ফোরামে ২১৭। সাধারণত বায়ুর মান ২০০-এর বেশি হলে তাকে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর উপরে গেলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্প, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ইটভাটার দূষণের প্রভাবে শীতকালে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কেবল ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রকল্প ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে শুকনা মৌসুমের শুরু থেকে ঢাকাকে প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকার শীর্ষে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অনুপস্থিতি ঢাকাবাসীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বায়ুর এই বর্তমান মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে সুরক্ষায় কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান বিরাজ করছে, তাতে ঘর থেকে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও অতিরিক্ত দূষণের কারণে বাড়ির বাইরে খোলা জায়গায় শরীরচর্চা বা ব্যায়াম না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। দূষিত বাতাস ঘরে প্রবেশ রোধ করতে যতটা সম্ভব জানাল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সংবেদনশীল ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।