
রাজধানী ঢাকার বাতাস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে এবং বিশেষ তিনটি এলাকায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সকাল সোয়া আটটার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার সামগ্রিক বায়ুমান সূচক বা একিউআই ছিল ১৭৩, যা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকাকে নবম অবস্থানে রেখেছে।
তবে সাধারণ গড় ছাপিয়ে গুলশানের বে’জ এইজওয়াটার এলাকায় বায়ুর মান ৩৩০ রেকর্ড করা হয়েছে, যাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ২৯৯ এবং গোড়ান এলাকায় বায়ুর মান ২৩৯-এ পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
শুকনো মৌসুমের শুরু থেকেই ঢাকা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকাবাসী একদিনের জন্যও নির্মল বাতাস পায়নি এবং চলতি বছরের শুরু থেকেই দূষণের মাত্রা আরও বাড়ছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ঢাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও এখন বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। আজ বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ভারতের কলকাতা, যার স্কোর ২২২।
ভয়াবহ এই দূষণ থেকে সুরক্ষায় আইকিউএয়ার নগরবাসীর জন্য বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় ঘরের বাইরের শারীরিক ব্যায়াম বা খেলাধুলা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘরের ভেতরে বাইরের দূষিত বাতাস প্রবেশ রোধ করতে জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজনে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতা বৃদ্ধি করতে পারে বলে চিকিৎসকরা নিয়মিত সতর্ক করছেন।