
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ১২ কেজির এ জ্বালানির সিলিন্ডার প্রতি খুচরা দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারিত হলেও ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই সরকারনির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। তবে এবার অতিরিক্ত দামের আগের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
বিভিন্ন এলাকার পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজির দাম ক্রমে বাড়ছে। সর্বশেষ গত তিন দিন চার এলাকার পৃথক চার ভোক্তা ভিন্ন দামে সিলিন্ডার কেনার তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন স্থানীয় বিক্রেতার কাছ থেকে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছেন ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান কেনেন ১ হাজার ৮০০ টাকায় ও টাঙ্গাইলের সাইফুজ্জামান কেনেন ১ হাজার ৮৫০ টাকায়। গতকাল শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুরে ২ হাজার ১০০ টাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনেছেন ফরিদউদ্দিন। সকল ক্রেতাই জানান, বেশি দামে এলপিজি কিনে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয় রসিদ চাইলেও পাননি তারা।
দেশে গৃহস্থালিতে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এলপিজি আমদানিকারক ও বোতলজাতকারীদের কাছ থেকে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতা হয়ে গ্রাহকের কাছে যায় এ জ্বালানি গ্যাস। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন হাত হয়ে গ্রাহকের কাছে যাওয়া এলপিজির দাম প্রতিটি স্তরেই বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে। বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় ও জাহাজ পাওয়ার জটিলতা থাকায় গত মাসে এলপিজির আমদানি কমেছে। তার কিছুটা প্রতিফলন এখন বাজারে দেখা দিয়েছে। তবে বাজারে এলপিজির গুরুতর সংকট নেই। সরবরাহ ঘাটতি দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট দামে কারসাজি করছে।
দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এলপিজির দাম। ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চাহিদা দিলেও এলপিজির সরবরাহ নেই। তাই ক্রেতারা চাইলেও দিতে পারছেন না। তাদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই তারাও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
দুই জন এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক জানান, এলপিজি অপারেটর কোম্পানিগুলো বেশির ভাগ এখন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ডিস্ট্রিবিউটররা ১ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে ৩০০-৪০০ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। তাও সিলিন্ডার প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাড়তি দাম নিচ্ছে অপারেটর কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলোতে ট্রাক গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় খরচ বাড়ছে। আবার দামও বেশি পড়ছে। তাই ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররাও নিজ নিজ পর্যায়ে ১৫০-২০০ টাকা করে বেশিতে বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। খুচরা বিক্রেতারাও তাদের কেনা বেশি হওয়ায় মুনাফার হার বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি করছে।
শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। ফলে আগের মাসের তুলনায় গত মাসে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। সব মিলিয়ে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বা হবে এমন আশঙ্কায় দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী রবিবার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম প্রতি মাসের মতো এ মাসেও পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যদিও নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার পান না গ্রাহকরা।