
একসময় অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এসসিজি)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মাঠের চরিত্র, বদলেছে কৌশলও। সবুজ ঘাসে মোড়া উইকেটের কারণে এবার এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে, যা দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।
চলমান অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট ও বছরের শুরুতে হওয়া টেস্টে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে সবশেষ ১৮৮৮ সালে বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়া খেলেছিল তারা। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ গড়া হয়েছিল কেবল পেসারদের দিয়ে।
১৮৮৮ সালের সেই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ছিলেন চারজন পেস বোলার—চার্লি টার্নার, জন জেমস ফেরিস, টম গ্যারেট এবং পেস অলরাউন্ডার জর্জ ম্যাকশেন। এরপর দীর্ঘ ১৩৮ বছর ধরে এসসিজিতে স্পিনার ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার একাদশ দেখা যায়নি।
এবারের অ্যাশেজে এটি বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় টেস্ট। পার্থে প্রথম টেস্টে ন্যাথান লায়ন খেললেও মাত্র দুই ওভার বোলিং করতে পারেন। ব্রিসবেনের দিন–রাতের টেস্টে তাকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। অ্যাডিলেইডে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় অভিজ্ঞ এই অফ স্পিনারকে।
লায়ন পুরোপুরি ফিট থাকলেও মেলবোর্ন টেস্টে তাঁর খেলা অনিশ্চিত ছিল। পেস সহায়ক উইকেটের কারণে চারজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে একাদশ সাজায় অস্ট্রেলিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় সিডনি টেস্টেও পেস-নির্ভর কৌশলেই এগিয়েছে স্বাগতিকরা।
সিডনি টেস্টে জাই রিচার্ডসনকে বাদ দিয়ে দলে নেওয়া হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার বাউ ওয়েবস্টারকে। মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ড ও মাইকেল নিসারের সঙ্গে বোলিং আক্রমণে আছেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও ওয়েবস্টার।
স্পিনের প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাভিস হেড। স্কোয়াডে থাকা অফ স্পিনার টড মার্ফিকে এই টেস্টে পানি ও তোয়ালে বহনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।
এসসিজিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দুই বোলারই স্পিনার—শেন ওয়ার্ন (৬৪) ও স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল (৫৩)। তালিকার চার নম্বরে আছেন ন্যাথান লায়ন (৪৯)। অথচ সেই মাঠেই স্পিনার ছাড়া নামতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।
অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ স্পিনার ছাড়া একাদশ নামানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে এটা করতে খারাপই লাগছে। কিন্তু যখন এমন উইকেট তৈরি হয়, যেখানে স্পিন ধরবে না এবং সিম বোলিংই মূল ভূমিকা রাখবে, তখন আমাদের হাতে বিশেষ কিছু করার থাকে না।”
ইংল্যান্ডও এই টেস্টে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার রাখেনি। তাদের একমাত্র পরিবর্তন চোট পাওয়া গাস অ্যাটকিনসনের জায়গায় পেসার ম্যাথু পটসকে দলে নেওয়া। স্পিনের দায়িত্ব সামলাবেন অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস ও খণ্ডকালীন স্পিনার জো রুট। বিশেষজ্ঞ অফ স্পিনার শোয়েব বাশির অ্যাশেজে কোনো টেস্ট না খেলেই দেশে ফিরছেন।