
বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, প্রতিবাদ, মানববন্ধন হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পরবর্তীতে শুটারদের অভিযোগের কারণে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এনএসসি থেকেও।
কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার আগেই যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত হওয়া বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদকে ফেডারেশন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী শুটাররা অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি শুটারদের যৌন ও মানসিক নিপীড়ন করেছেন। তার বিচার চেয়ে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন খেলার নারী ক্রীড়াবিদরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন। বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছিলেন।
শুটারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেরিতে হলেও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এবং কিছু দিন আগে তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। সেই তদন্ত কমিটি আজকালের মধ্যে রিপোর্টও জমা দেবে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই অভিযুক্ত জি এম হায়দার সাজ্জাদকে ফেডারেশন থেকে সরিয়ে দিল এনএসসি। সদ্য যোগ দেওয়া এনএসসির সদ্য নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ নেই কী কারণে জি এম হায়দার সাজ্জাদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ হতে জি এম হায়দার সাজ্জাদকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রদত্ত এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।’ এনএসসির আইনে রয়েছে যে কোনো সময় অ্যাডহক কমিটির যে কাউকে সরিয়ে দিতে পারে।
অ্যাডহক কমিটি গঠন করার আগেই জি এম হায়দার সাজ্জাদকে নিয়ে আপত্তি ছিল। শুটাররা বারবার ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবকদের বলে জানিয়েছিলেন সাজ্জাদ শুটারদের সঙ্গে কী করেছেন। যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হলেও রহস্যজনক কারণে সাজ্জাদ অ্যাডহক কমিটিতে যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পান। শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক একজন নারী, ফেরদৌস আরা খানম। শুটিংয়ে গুঞ্জন রয়েছে, সাধারণ-সম্পাদকের চেয়ে যুগ্ম-সম্পাদকের ক্ষমা বেশি ফেডারেশনে।
জি এম হায়দারকে অব্যাহতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের তারকা শুটার কামরুন নাহার কলিকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে ফেডারেশন। বলা হয়েছে, কলির বিরুদ্ধে কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙার অভিযোগ করে ফেডারেশন বলেছে, কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না। যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে শুটার কলি সব সময় সোচ্চার ছিলেন।
গতকাল কলি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, একজন যৌন নিপীড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বাঁচাতে একটা ফেডারেশন যদি তার বেস্ট খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করে তাহলে এটা সেই ফেডারেশনের জন্য লজ্জাজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই আলেয়া ম্যাডামের প্রতি যিনি একজন মহিলা হয়ে এমন একজন দুশ্চরিত্রবান ও সমালোচিত অপরাধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, কলির প্রতি এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিশোধমূলক এবং প্রহসনের বহিষ্কারাদেশ উইথড্র করার দাবি জানাই। টুটি চেপে ধরে মানসিক অত্যাচার চালাবে আর প্রতিকার না পেয়ে মিডিয়াতে কথা বললেই একটা খেলোয়াড়কে এভাবে বহিষ্কারের খড়গ চাপালে আর খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে না। দেশের বর্তমানের টপ মোস্ট শুটারকে যদি এই শাস্তির আওতায় আনা হয় তবে এটা আমাদের পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক! আজ শুটিং ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, কলির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রশিক্ষণের অনুমতি প্রদানের জোরালো দাবি জানাই।’