
ফুটবল মাঠে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মানেই রেকর্ড, গোল আর অদম্য প্রতিযোগিতা। কিন্তু মাঠের বাইরের রোনালদোকে খুব কম মানুষই চেনে। সেই অচেনা দিকটাই তুলে ধরেছেন লুকা মদ্রিচ- রোনালদোকে যিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে, ড্রেসিংরুম ভাগ করে, চাপের মুহূর্তে একসঙ্গে লড়াই করেছেন।
ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের চোখে রোনালদো শুধু কিংবদন্তি নন, বড় হৃদয়ের একজন মানুষও। যিনি নীরবে সাহায্য করেন, আলোচনার বাইরে থেকেই পাশে দাঁড়ান অন্যদের।
ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে পুরোনো ও তীব্র বিতর্কগুলোর একটি- মেসি না রোনালদো, কে সেরা? এই প্রশ্নে সরাসরি কোনো একপাশে দাঁড়াতে নারাজ মদ্রিচ। বরং দুই মহাতারকাকেই দেখেন একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। তার কাছে এই তুলনা অনেকটা শিল্প আর সৌন্দর্যের মতো- দৃষ্টিভেদে যার মানে বদলায়।
মদ্রিচ বলেন, ‘এটা এমন এক প্রশ্ন, যেটা আমি কখনোই পছন্দ করি না। তারা দুজনই একটা নির্দিষ্ট সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে। তবে ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আলাদা, কারণ আমি তার সঙ্গে খেলেছি।’
রিয়াল মাদ্রিদে কাটানো সেই সময়গুলোতেই রোনালদোর অন্য এক পরিচয়ের সঙ্গে পরিচিত হন মদ্রিচ। তার ভাষায়, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি- সে শুধু অসাধারণ ফুটবলার নয়, একজন দারুণ মানুষও। অনেকেই জানে না, কিন্তু তার হৃদয়টা অনেক বড়। সে সব সময় অন্যদের সাহায্য করতে চায়। খুব সহজ-সরল, খুব সাধারণ একজন মানুষ।’
রোনালদোর আত্মবিশ্বাস, নিজেকে সেরা ভাবার মানসিকতা- সবই মাঠের জন্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একেবারেই ভিন্ন, এমনটাই ইঙ্গিত দেন মদ্রিচ। অথচ এই দিকটা কখনোই নিজে সামনে আনেন না সিআরসেভেন।
মেসির সঙ্গে মদ্রিচের সম্পর্কটা অবশ্য ভিন্ন। কখনো সতীর্থ হওয়ার সুযোগ হয়নি। স্পেনে থাকাকালীন বারবার মুখোমুখি হয়েছেন প্রতিপক্ষ হিসেবে। বিশ্বকাপের মঞ্চেও দু’বার দেখা হয়েছে তাদের, যেখানে জয়-পরাজয়ের স্মৃতি দুই পক্ষের জন্যই তিক্ত।
তবুও মেসিকে মূল্যায়নে একচুলও কার্পণ্য নেই মদ্রিচের। তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মেসিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু আমার কোনো সন্দেহ নেই, সেও অসাধারণ একজন মানুষ। আর খেলোয়াড় হিসেবে- সে যা অর্জন করেছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’
একজন খেলেছেন শৈল্পিক নিখুঁততায়, অন্যজন খেলেছেন শক্তি ও ক্ষুধা নিয়ে। একজন ফুটবলকে বানিয়েছেন শিল্প, আরেকজন বানিয়েছেন যুদ্ধ। মদ্রিচের চোখে এই দুই মহাতারকা আলাদা পথের যাত্রী হলেও গন্তব্য একটাই- ফুটবলের ইতিহাস।
আরেকটি বিশ্বকাপ দাঁড়িয়ে আছে সামনে। সম্ভবত এটিই মেসি ও রোনালদোর শেষ বিশ্বমঞ্চ। কে সেরা- এই বিতর্কে আর সময় নষ্ট করতে চান না মদ্রিচও। তার মতোই কোটি ভক্তের অপেক্ষা এখন শুধু একটাই, ফুটবল ইতিহাসের দুই অধ্যায়ের শেষবারের মতো একসঙ্গে আলো ছড়ানো।