
নিলামের টেবিলে যে নামটিকে উপেক্ষা করা হয়েছিল, সেই নামই মাঠে নেমে বদলে দিল ম্যাচের চিত্র। বিপিএলের চলতি আসরে মাহমুদউল্লাহর গল্পটা তাই শুধুই রান বা স্ট্রাইক রেটের নয়, বরং অভিজ্ঞতা কীভাবে চাপের মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দেয়- তারই প্রমাণ।
বিপিএলের সর্বশেষ দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়েও এবারের নিলামে প্রথম ডাকে দল পাননি মাহমুদউল্লাহ। টেলিভিশনের পর্দায় নিলাম দেখার সময় বিষয়টি তার কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত। নিয়ম অনুযায়ী এক ধাপ নিচের ক্যাটাগরিতে নামার কথা থাকলেও রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের অনুরোধে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমকে সেই অবস্থায় যেতে হয়নি। পরে ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকায় মাহমুদউল্লাহকে দলে নেয় রংপুর রাইডার্স।
নিলামের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহমুদউল্লাহ প্রকাশ্যে হতাশা না দেখালেও সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর জানিয়েছেন, নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় প্রথম ধাপে দল না পাওয়াটা তাকে বিস্মিত করেছিল।
পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট তার আত্মবিশ্বাসের কারণ। গত দুই মৌসুমে ফরচুন বরিশালের হয়ে সীমিত ইনিংস খেলেও স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩০-এর ওপরে, রানও এসেছে নিয়মিত। তবু চলতি আসরে রংপুরের জার্সিতে মাঠে নামার পরপরই চাপের মুখে পড়েন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ বলে এক রান নিতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যেখানে হেরে যায় রংপুর। লেট মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করা একজন ক্রিকেটারের জন্য যে মুহূর্তগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সেই জায়গাতেই আঙুল ওঠে মাহমুদউল্লাহর দিকে।
সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকের ব্যাটিং বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও বাস্তবে প্রতিটি বল আলাদা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। দলের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিলে সব সময় ফল অনুকূলে আসে না- এটাই এই ফরম্যাটের বাস্তবতা।
কিন্তু অভিজ্ঞতার আসল মূল্যটা বোঝা যায় ঠিক পরের ম্যাচেই। সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ওভারে যখন রংপুর রাইডার্সের দরকার ছিল ৪৯ রান, তখন চাপকে নিজের পক্ষে টেনে নেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে টানা চার বলে চার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বদলে দেন ম্যাচের গতি। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসে ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে রংপুর।
ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে ছিল দলের জয় ফেরানোর তৃপ্তি। তার মতে, ব্যক্তিগত সমালোচনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের জন্য প্রয়োজনের মুহূর্তে অবদান রাখতে পারা। আগের ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে এই জয়ই রংপুরকে ফিরিয়েছে মোমেন্টামে।