
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ঝুঁকি হবে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক তৎপরতা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় প্রধান ঝুঁকি হবে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত, যেমন নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই। তৃতীয় প্রধান ঝুঁকি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬-এ স্বল্প মেয়াদে বিভিন্ন ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক ঝুঁকিও চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিটি দেশের ঝুঁকি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার নিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অর্থনৈতিক ধীরগতিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মন্দা বা স্থবিরতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পঞ্চম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঋণ। এই ঋণ সরকারি, করপোরেট ও পারিবারিক ঋণের সমষ্টি। বাস্তবতা হলো গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে। জাতীয় বাজেটের প্রধান খাত এখন ঋণের সুদ পরিশোধ। এই চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
২০২৫ সালের মে-জুলাই মাসে এই জরিপ করা হয়েছে। ৩৪টি বিষয়ের মধ্যে আগামী দুই বছরের জন্য ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল কোম্পানির নির্বাহীদের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে, মানুষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। উন্নত জীবনের আশা তাদের হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই ক্ষোভ ও বঞ্চনা থেকেই দেশে এই অভ্যুত্থান। শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।
বৈশ্বিক পরিসরে এবার অনেক বড় ঝুঁকির কথা বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। তারা মনে করছে, নতুন প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় প্রবেশের প্রেক্ষাপটে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকি। এর পরের চারটি ঝুঁকি হলো রাষ্ট্রীয় সংঘাত, চরম আবহাওয়া, সামাজিক মেরুকরণ আর ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।