
বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের পর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যাই হোক না কেন, এর বেশি টাকা আদায় করা যাবে না।
এর আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা ছিল না। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা (জিএফইটি)–২০১৮ অনুযায়ী মানি চেঞ্জারদের এনডোর্সমেন্ট করার অনুমতি থাকলেও, ফি কত হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা, এক হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জিএফইটি–২০১৮ অনুযায়ী মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ ভাতার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রয়ের তথ্য যাত্রীর পাসপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান টিকিটেও মানি চেঞ্জারের অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষরসহ তা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি মানি চেঞ্জারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে এই ফি বাবদ গ্রাহকদের লিখিত রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক, যাতে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া মানি চেঞ্জারদের আদায়কৃত সব এনডোর্সমেন্ট ফি–এর পৃথক ও সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সব মানি চেঞ্জারকে নতুন নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।