
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ভরিপ্রতি স্বর্ণ ২ হাজার ২১৬ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ এখন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায়। তবে অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে এই মূল্যের সঙ্গে সরকারকে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ মজুরি প্রদান করতে হবে। অবশ্য গহনার নকশা ও গুণগত মান অনুযায়ী মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে বলে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয়েছে ১১ বার। এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যেখানে বছরজুড়ে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। গত বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সে সময় ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। স্বর্ণের বাজারে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও তেজাবি স্বর্ণের দামের ওঠানামার কারণেই এমন ঘনঘন পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণের দামে বড় ধরণের পরিবর্তন আসলেও বর্তমানে রুপার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। রুপার বাজারে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ানো ও ৭ বার কমানোর ঘটনা রয়েছে।