
বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ডিসেম্বরে দেশে মোট ২২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
একক দেশ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও শীর্ষ স্থান দখল করেছে সৌদি আরব। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৪৯ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। রেমিট্যান্সের এই উর্ধ্বমুখী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কিছু দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪০ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার, ইতালি থেকে ১৯ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার এবং ওমান থেকে ১৮ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তালিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছে।
রেমিট্যান্সের এই প্রবাহকে গত বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। গত নভেম্বর মাসেও ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন উদ্যোগ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।