
বিপিএলের শুরুতে কেউই চট্টগ্রাম রয়্যালসকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে ভাবেনি। আসর শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় বিসিবিকে দলের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। আর্থিক জটিলতায় তখন দলটির ভবিষ্যৎই ছিল অনিশ্চিত। এমন এক এলোমেলো প্রস্তুতির মধ্যেও শেখ মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে মাঠে নামা সেই চট্টগ্রাম এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একের পর এক বড় জয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করছে ‘কমিটির দল’ খ্যাত রয়্যালস। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দেওয়ার পর সিলেট টাইটান্সকেও ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বর আসন দখল করেছে চট্টগ্রাম। চার ম্যাচে তিন জয়, এক হার, ছয় পয়েন্ট। নেট রান রেটও সবচেয়ে বেশি।
টস জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন শেখ মেহেদি। সিদ্ধান্তটা ছিল নিখুঁত। শুরু থেকেই দাপট দেখান চট্টগ্রামের বোলাররা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ধস নামে সিলেটের টপ অর্ডারে। ওপেনার মেহেদি হাসান মিরাজকে ৫ রানে রান আউট করেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। এরপর হজরতউল্লাহ জাজাই, ইথান ব্রুকস, আফিফ হোসেন কেউই দাঁড়াতে পারেননি চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে। ছন্দে থাকা পারভেজ হোসেন ইমনও আউট হন ১৭ রানে।
দলীয় ৩৪ রান তুলতে গিয়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ, জাজাই, ব্রুকস, আফিফ ও ইমন। ৫ উইকেট হারিয়ে সিলেট তখন একেবারে চাপে। তবে একপ্রান্ত আগলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১২৬ রানে টেনে নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
১২৭ রানের টার্গেটে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন। কোটি টাকার নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৫২ রান। অন্যপ্রান্তে ৩৭ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন ইংলিশ ব্যাটার রসিংটন। দলীয় ১১৫ রানের ওপেনিং জুটির পরই মূলত জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ২৪ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই চট্টগ্রাম পায় টানা দ্বিতীয় বড় জয়। ম্যাচসেরা হয়েছেন নাঈম শেখ। তবে রসিংটন ও চট্টগ্রামের বোলারদের অবদানও কম নয়।
এই জয় শুধু চট্টগ্রামকে শীর্ষে তুলেনি, বরং দলের মনোবলও বাড়িয়েছে বহুগুণ। বিপিএলের শুরুর দিকে যে দলটির বিদেশি ক্রিকেটার পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না, তারা এখন লিগের সবচেয়ে ভয়ংকর ইউনিট। শেখ মেহেদির নেতৃত্বে মাঠের শৃঙ্খলা, দলীয় ঐক্য এবং বোলার-ব্যাটারদের নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করেছে সফলতার মজবুত ভিত।
তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেই এসেছে এক দুঃসংবাদ। সিলেটের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিং করতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন দলের পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। ইনজুরির কারণে ওভারের মাঝপথেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে দলীয় ফিজিও এনামুল হক জানিয়েছেন, মুগ্ধর ইনজুরি গুরুতর নয়। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া এই তরুণ পেসার শিগগিরই ফিরবেন বলে আশাবাদী চট্টগ্রাম শিবির।