
গোলের বন্যা বললেও ভুল হবে। জলোচ্ছ্বাস চলছে। এক ম্যাচে ১৫ গোল, আরেক ম্যাচে ২৩ গোল। এক দিনে ৫ খেলা। হায়রে দেশের নারী ফুটবল লিগ। কী কারণে বাফুফের সহসভাপতিরা এমন নিয়ম চালু করলেন বুঝা গেল না। খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের পর একটা ক্লাব প্রস্তুতিও নিতে পারেনি। অনুশীলন করার সময় দেওয়া হয়নি। খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করেই ম্যাচ খেলতে নামতে হয়েছে। ক্লাবগুলো ফিফার কানেক্ট পদ্ধতি শিখতে গিয়ে অনুশীলনের জন্য সময় চাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ধমক শুনতে হয়েছিল।
তারপরও আর কেউ কথা বলেনি। যারা প্রস্তুতির মধ্যে ছিলেন তাদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ১১ দলের লিগে যদি একটা দুই ক্লাবের বাইরে অন্যদের প্রস্তুতি না থাকে তাহলে দুর্বল দলগুলোর সঙ্গে খেলে বড় জয় পাবে। কিন্তু খেলার সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। সেটাই হয়েছে। চোখের সামনে একটা দল ১৫ গোল হজম করার দৃশ্য দেখে কমলাপুর স্টেডিয়ামে বাফুফের পরিকল্পনা নিয়ে হাসাহাসি হচ্ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে কমলাপুর স্টেডিয়ামে যে কয়জন দর্শক গ্যালারিতে বসেছেন, তারা কৌতুক করছেন ফুটবল নিয়ে।
দুই দিন আগে ফরাশগঞ্জ ২৩-০ গোলে হারিয়েছে কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থাকে। গোল সংখ্যা মনে রাখতে পারছেন না খেলোয়াড়রা নিজেরাও। রেফারিরাও বিপদে পড়ছেন। গোলে হিসাব লিখতে গিয়ে বাড়তি কাগজ রাখতে হচ্ছে।
এত এত গোল দেশের নারী লিগে, আদৌ কি উন্নতি হচ্ছে। ১১ দল নিয়ে লিগ করলে ফিফা টাকা দেবে। কিন্তু এই লিগ আদৌ কতটা ফুটবলময় হচ্ছে তা দেখার কে আছেন। নারী ফুটবলের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তিনি আগে লিগটা আয়োজন করেছেন একভাবে, এত সমালোচনা হয়নি। সেই নারী লিগ আয়োজনে স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে বাস্তবতা ভুলে গেল। ভুল পথে হাঁটল ফেডারেশন। সময়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা উপলব্ধি না করেই বাফুফের অন্য কর্মকর্তার অবাস্তব পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে গিয়ে লিগটা এখন হাসির খোরাক দিচ্ছে গ্যালারির দর্শকদেরকে। ক্লাবগুলো প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি। এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে এটাই নাকি প্রস্তুতির জন্য ভালো একটা লিগ।
গতকাল পুলিশ ফুটবল ক্লাব ১৫-০ গোলে হারিয়েছে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে। সাগরিকা ৫ গোল করেছেন, ইলামনি আক্তার ইলা, আইরিন খাতুন হ্যাটট্রিক করেছেন। রোজানা, সাবিনা, অধিনায়ক সানজিদা আক্তাররা জোড়া গোল করেছেন। আক্রমণভাগের সানজিদার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছেন, তাকে দেওয়া হয়েছে ম্যাচ সেরা পুরস্কার। একই মাঠে সেনাবাহিনী ৫-১ গোলে হারিয়েছে আনসারকে, ঢাকা রেঞ্জার্স ১-০ গোলে সিরাজ স্মৃতি সংঘকে হারিয়েছে। রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহী স্টারস ৪-০ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপিকে। আলপি আক্তার ৪, আফঈদা খন্দকার ১ গোল করেন।