
আগামী মাসে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই পড়েছে ভারতে। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় দেশটিতে দল পাঠানো সম্ভব না বলে আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, ‘ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ’ এবং ‘বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ বিবেচনায়’ তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাবে না। বাংলাদেশের ভেন্যু অন্য দেশে সরিয়ে নিতেও আইসিসির কাছে আবেদন করে ক্রিকেট বোর্ড।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী– বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলতে কলকাতায় যাওয়ার কথা ছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো জবাব আসেনি বিসিবির কাছে। তবে আশা করা যাচ্ছে এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ দিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দাবি, বাংলাদেশের চাওয়ার প্রেক্ষিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন সূচি বানাচ্ছে আইসিসি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের সূচি নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সম্পর্কের অবনতি এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পরিস্থিতি অনেকটা ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের মতোই টানাপোড়েনের রূপ নিয়েছে।
তবে ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিবি পরিচালক। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আইসিসি এত দ্রুত কীভাবে সম্মত হতে পারে? আমরা তো রোববার (ছুটির দিন) চিঠি পাঠিয়েছি। তাই কোনো সমঝোতার খবর আসলে গুজব ছাড়া কিছু নয়।’
আইসিসি যদি বিসিবির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক এই আসরে অংশ নেবে না। সে ক্ষেত্রে দুটি পরিস্থিতির একটি ঘটতে পারে।
২০ দলের টুর্নামেন্টটি ১৯ দলে নেমে আসবে। যেখানে গ্রুপ ‘সি’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, ইতালি ও নেপাল ওয়াকওভার পাবে।
বিশ্বকাপে এমন নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় সফর না করায় শ্রীলঙ্কা ওয়াকওভার পেয়েছিল। একইভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড যথাক্রমে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় তাদের ম্যাচ না খেলায় ওয়াকওভার দেওয়া হয়েছিল।
অন্য পথ হলো, আইসিসি বাংলাদেশের বদলে অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ২২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আইসিসি তাদের বদলে আয়ারল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। আবার ২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক বছর আগে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড খেলেছিল।
তাই সবার দৃষ্টি এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের দিক। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত এই সংকটের অবসান ঘটাতে পারে। আবার নতুন করে বড় অস্থিরতার সূচনাও করতে পারে।