
আধুনিক ফুটবলে নেইমারের মতো স্বাভাবিক প্রতিভার খেলোয়াড় খুবই বিরল। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি ও সৃজনশীলতায় তিনি একসময় বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ ‘নেতা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। কিন্তু শৃঙ্খলাজনিত বিতর্ক, বারবার ইনজুরি এবং ধারাবাহিকতার অভাব তাকে এনে দেয় এক ভিন্ন পরিচয় ‘রাজপুত্র, যিনি কখনো রাজা হতে চাননি’।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইনজুরি। এর সঙ্গে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও চেপে বসতে থাকে নেইমারের ওপর। সান্তোসে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর ২০১৩ সালে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ট্রান্সফার ফিতে তাকে দলে টেনেছে বার্সেলোনা। স্পেনে চার মৌসুমে নেইমার জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিসহ একাধিক শিরোপা। সেই সঙ্গে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ‘ভয়ংকর’ আক্রমণভাগ। এরপর রেকর্ড ট্রান্সফারে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি), সেখান থেকে সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল। সবশেষে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন সান্তোসে-যেখান থেকে তার ক্যারিয়ারের শুরু।
একটি সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেইমারের বাবা জানিয়েছেন, একাধিকবার অবসরের কথা ভেবেছিলেন তার ছেলে। ইনজুরি যখন একের পর এক বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন এই ভাবনা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। সান্তোসে তার সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার এমনকি অস্ত্রোপচারও পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে দল ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ব্রাসিলিরাওতে অবনমন এড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে তার অবদানই বড় ভূমিকা রাখে। নেইমারের বাবা বলেন কয়েক মাস আগে নেইমার তাকে বলেছিলেন, ‘আমি আর এটা সহ্য করতে পারছি না। আমার অস্ত্রোপচার দরকার, কিন্তু জানি না এটা আদৌ মূল্যবান কি না। আমি খুব ক্লান্ত।’
ব্রাজিলিয়ান তারকার ইনজুরি দীর্ঘ ও জটিল। সব চেয়ে ভয়াবহ ছিল অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, যা তাকে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩০০ দিনের বেশি সময় মাঠের বাইরে রেখেছিল। প্রতিটি প্রত্যাবর্তনই ছিল ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা ও সময়ের সঙ্গে এক কঠিন সংগ্রাম। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর নেইমারের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
সান্তোস নিশ্চিত করে, এক জন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি সফলভাবে করা হয়েছে এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয় বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন নেইমার। তবে ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলে কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় পুরোপুরি ভাবে নেইমার থাকবেন কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন।