
গভীর, সংযত আর গুরুগম্ভীর চরিত্রেই এত দিন দর্শক তাকে চিনেছেন। কিন্তু নতুন ছবিতে সেই পরিচিত ছকের বাইরে পা রেখেছেন মালবিকা মোহানন। হরর-কমেডি ঘরানার বাণিজ্যিক ছবি ‘দ্য রাজাসাব’–এ একেবারেই আলাদা রূপে ধরা দিয়েছেন তিনি। মারুতি পরিচালিত এই ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও মালবিকার সাবলীল অভিনয় ও পর্দা–উপস্থিতি দর্শকের নজর কেড়েছে। ছবিতে নিজের চরিত্র, প্রভাসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
বাণিজ্যিক ছবিটির প্রস্তাব পাওয়া মালবিকার কাছে ছিল বিশেষ মুহূর্তটি। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই প্রভাসের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। তাই প্রস্তাবটা আসার সঙ্গে সঙ্গেই আগ্রহ জন্মায়।’
শুধু সহশিল্পী নয়, চরিত্রটিও ছিল বড় আকর্ষণ। মালবিকার ভাষায়, ‘ভৈরবীর চরিত্রে করার মতো অনেক কিছু ছিল। বড় তারকার ছবিতে অনেক সময় নারী চরিত্র অ্যাকশনের সুযোগ পায় না। এখানে আমি নিজেই অ্যাকশন করেছি, এটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বড় পর্দার বাণিজ্যিক ছবির জন্য আলাদা প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। ‘আমি জানতাম, এটা একেবারে বড় পর্দার দর্শকের জন্য বানানো ছবি। তাই অভিনয়ের ধরনও সেই অনুযায়ী ঠিক করেছি। কোথাও ধীর, কোথাও জমাট—এই ভারসাম্যটা মাথায় রেখে কাজ করেছি,’ বলেন মালবিকা।
অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য প্রায় ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল তাকে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘লাফ দেওয়া, দড়ি ব্যবহার করে আঘাত করার মতো জটিল স্টান্ট ছিল। তাই আলাদা করে ট্রেনিং নেওয়া জরুরি ছিল।’
প্রভাসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বাস লুকাননি মালবিকা। তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে প্রভাসকে একেবারে অন্যভাবে দেখা গেছে। আমরা সাধারণত প্রভাসকে গম্ভীর চরিত্রে দেখি, এখানে তিনি হাস্যরস করেছেন।’
বিভিন্ন ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ নিজের অভিনয়যাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন মালবিকা। তার কথায়, ‘মালয়ালম ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে কাজ করা যেমন স্বপ্নপূরণ, তেমনি প্রভাসের সঙ্গে কাজ একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা। এখন ভাষার সীমারেখা অনেকটাই মুছে গেছে। ভালো ছবি হলে দর্শক নিজেরাই তা খুঁজে নেন।’
শোবিজে সমালোচনা ও চাপ সামলানোর বিষয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন ‘এই পেশায় চেহারা থেকে হাঁটার ভঙ্গি—সবকিছু নিয়েই মন্তব্য আসে। শুরুতে কঠিন ছিল।’ তবে এখন তিনি জানেন কোন মতামত গুরুত্ব দিতে হবে। ‘কাজের বাইরে আমার নিজের ছোট একটা জগৎ আছে—পরিবার আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু,’ যোগ করেন মালবিকা।
ভ্রমণ আর আলোকচিত্রচর্চা, বিশেষ করে বন্য প্রাণীর ছবি তোলা, তাকে মানসিকভাবে সতেজ রাখে বলেও জানান তিনি। ফিটনেস প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তাই শরীরচর্চা আমার কাছে স্বাভাবিক।’ একটি ছবির জন্য শেখা প্রাচীন তামিল মার্শাল আর্ট এখন তাঁর নিয়মিত অনুশীলনের অংশ।
ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজেকে বাঁধতে চান না মালবিকা। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার মা।
সবশেষে ‘দ্য রাজাসাব’ ও নিজের চরিত্র নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মালবিকা বলেন, ‘এটা পুরোপুরি দর্শকনির্ভর ছবি। ভৈরবী শক্ত, কিন্তু মাটির সঙ্গে মিশে থাকা একজন নারী।’ চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিলও খুঁজে পান তিনি। ‘সে ভালোবাসার মানুষের জন্য লড়াই করে, আবার নিজের আবেগ প্রকাশ করতেও জানে। আশা করি দর্শক ছবিটা উপভোগ করছেন।’